রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

নতুন ভূমি রেজিস্ট্রেশন কর বাস্তবায়ন

  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৭০৮ পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: সমালোচনার মুখে অবশেষে জমি রেজিস্ট্রেশনে উৎসে কর কমিয়েছে এনবিআর। এতে জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন খরচ কমবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এলাকার জমি মৌজা অনুযায়ী বাণিজ্যিক, আবাসিক, ডেভেলপার কোম্পানি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এলাকার বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের জমি এ ৫ শ্রেণিতে উৎসে কর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

জমির শ্রেণিগুলো হচ্ছে শ্রেণি-ক : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন বাণিজ্যিক এলাকা। শ্রেণি-খ : ক শ্রেণিতে উল্লিখিত এলাকার আবাসিক। শ্রেণি-গ : রাজউক, সিডিএ, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়; কিন্তু ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক এলাকা। শ্রেণি-ঘ : গ শ্রেণিতে উল্লিখিত আবাসিক এলাকা। শ্রেণি-ঙ : ক, খ, গ, ঘ শ্রেণি ব্যতীত অন্য সব এলাকা।

ঢাকার গুলশান, বনানী, মতিঝিল ও তেজগাঁও থানার সব মৌজার ‘ক’ শ্রেণির জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ১৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে কর দিতে হবে। ‘খ’ শ্রেণির জন্য মূল্যের ৮ শতাংশ বা ৬ লাখ টাকা, ‘গ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ১৫ লাখ টাকা, ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৬ লাখ টাকা এবং ‘ঙ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থ সাউথ রোড, মতিঝিলের সম্প্রসারিত এলাকা এবং মহাখালী এলাকার জমির ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ বা ২০ লাখ টাকার অধিক যেটি বেশি সে হারে উৎসে কর রয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পদ্ধতিতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হবেন। আগে সব ধরনের জমির রেজিস্ট্রেশনে একই হারে কর ছিল। এখন কর কমানোর পাশাপাশি মৌজাভিত্তিক ও জমির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এতে আবাসিক জমি কেনাবেচার খরচ কমবে।

আরও পড়ুন >   আড়াইহাজারে দেয়াল ধসে পশু চিকিৎসকের মৃত্যু

এ ছাড়া ঢাকার ধানমন্ডি, ওয়ারী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, বংশাল, নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানার অন্তর্গত মৌজার ‘ক’ শ্রেণির জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ অথবা কাঠাপ্রতি ১০ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা ৪ লাখ টাকা, ‘গ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ১০ লাখ টাকা, ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৪ লাখ টাকা এবং ‘ঙ’ শ্রেণির জন্য মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৩ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে।

খিলক্ষেত, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা মডেল থানা, ক্যান্টনমেন্ট থানা, চকবাজার থানা, কোতোয়ালি থানা, লালবাগ থানা, খিলগাঁও, শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া থানার সব মৌজার ‘ক’ শ্রেণির জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা ২ লাখ টাকা, ‘গ’ শ্রেণির জন্য মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা, ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ২ লাখ টাকা এবং ‘ঙ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি দেড় লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে।

ঢাকার উত্তর-পশ্চিম বিমানবন্দর, মুগদা, রূপনগর, ভাষানটেক, বাড্ডা থানা, পল্লবী থানা, ভাটারা, শাহজাহানপুর, মিরপুর মডেল থানা, দারুস সালাম থানা, দক্ষিণখান থানা, উত্তরখান থানা, তুরাগ থানা, শাহ আলী থানা, সবুজবাগ থানা, কদমতলী থানা, কামরাঙ্গীরচর থানা, হাজারীবাগ, ডেমরা ও আদাবর থানা, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও কালিগঞ্জ থানার সব মৌজা, নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও থানার সব মৌজার ‘ক’ শ্রেণির জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৪ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা দেড় লাখ টাকা, ‘গ’ শ্রেণির জন্য মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৪ লাখ টাকা, ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি দেড় লাখ টাকা এবং ‘ঙ’ শ্রেণির জন্য ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি এক লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে।

আরও পড়ুন >   নারায়ণগঞ্জ পাট শ্রমিক সমিতির সধারণ সভা

চট্টগ্রামের খুলশী, পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী, হালিশহর ও কোতোয়ালি থানার সব মৌজা, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর থানার সব মৌজা, গাজীপুরের সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা, টঙ্গী পূর্ব, টঙ্গী পশ্চিম থানার সব মৌজার ‘ক’ শ্রেণির জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৩ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা এক লাখ টাকা, ‘গ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৩ লাখ টাকা, ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি এক লাখ টাকা এবং ‘ঙ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৮০ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে।

ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই উপজেলার সব মৌজা, চট্টগ্রামের আকবর শাহ, ইপিজেড, কর্ণফুলী, চকবাজার, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, পতেঙ্গা, পাঁচলাইশ, বন্দর, বাকলিয়া, বায়েজিদ বোস্তামি ও সদরঘাট থানার সব মৌজা এবং নারায়ণঞ্জের আড়াই হাজার থানার সব মৌজার ‘ক’ শ্রেণির জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ২ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা ৮০ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ২ লাখ টাকা, ‘ঘ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৮০ হাজার টাকা এবং ‘ঙ’ শ্রেণির জন্য ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৫০ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন ব্যতীত অন্য সিটি করপোরেশন এলাকা ও অন্য কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা সদরে অবস্থিত সব পৌরসভার অন্তর্গত সব মৌজার ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ৬ শতাংশ, জেলা শহরের বাইরের পৌরসভার ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ এবং পৌরসভা ব্যতীত অন্য সব মৌজার জন্য ২ শতাংশ উৎসে কর ধার্য করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
স্বত্ব © ২০২৪ সাপ্তাহিক আড়াইহাজার
Theme Customized By BreakingNews